কসমের কাফফারার তিন রোজা কি একটানা বা ধারাবাহিক ভাবে রাখতে হবে?

 



بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

সমস্ত প্রশংসা মহান রাব্বুল আলামিনের যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদতের জন্য এবং তার বান্দার জন্য সহজ করেদিয়েছেন যাবতীয় বিষয় । দুরুদ ও সালাম বর্ষিত শেষ নবী ও রাহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদ (ছাঃ) এর উপর ।

আল্লাহ তা'আলা বলেন -

 لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللّٰهُ بِاللَّغۡوِ فِىۡۤ اَيۡمَانِكُمۡ وَلٰـكِنۡ يُّؤَاخِذُكُمۡ بِمَا عَقَّدْتُّمُ الۡاَيۡمَانَ​ ۚ فَكَفَّارَتُهٗۤ اِطۡعَامُ عَشَرَةِ مَسٰكِيۡنَ مِنۡ اَوۡسَطِ مَا تُطۡعِمُوۡنَ اَهۡلِيۡكُمۡ اَوۡ كِسۡوَتُهُمۡ اَوۡ تَحۡرِيۡرُ رَقَبَةٍ​ ؕ فَمَنۡ لَّمۡ يَجِدۡ فَصِيَامُ ثَلٰثَةِ اَيَّامٍ​ ؕ ذٰ لِكَ كَفَّارَةُ اَيۡمَانِكُمۡ اِذَا حَلَفۡتُمۡ​ ؕ وَاحۡفَظُوۡۤا اَيۡمَانَكُمۡ​ ؕ كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللّٰهُ لَـكُمۡ اٰيٰتِهٖ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُوۡنَ

তোমাদের বৃথা শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না, কিন্তু যেসব শপথ তোমরা ইচ্ছে করে কর সেগুলোর জন্য তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। তারপর এর কাফফারা দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের খাদ্য দান, যা তোমরা তোমাদের পরিজনদেরকে খেতে দাও, বা তাদেরকে বস্ত্রদান, কিংবা একজন দাস মুক্তি । অতঃপর যার সামর্থ নেই তার জন্য তিন দিন সিয়াম পালন । তোমরা শপথ করলে এটাই তোমাদের শপথের কাফফারা। আর তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো । এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা শোকর আদায় কর। (সুরা মায়েদা ৮৯)

কোন ব্যক্তির যদি দরিদ্রকে খাওয়ানো কিংবা পোশাক দেওয়ার সামর্থ্য থাকে তাহলে তার জন্য কাফফারা হিসিবে রোজা রাখা বৈধ নয় ।

কাফফারার তিন রোজা কি একসাথেই রাখতে হবে ? আলাদা আলাদা রাখলে কি হবেনা?

এই বিষয়ে উলেমায়ে কেরামগণের মধ্যে ইখতেলাফ রয়েছে । 

হানাফী ও হানবালী ফাকিহগণের মতে ধারাবাহিক ভাবে রাখতে হবে । হানবালী মত অনুসারে রোজার মাঝখানে মাসিক হলে তাহলে পৃথক ভাবে রাখতে পারবে 

মালিকি শাফি ফাকিহদের মতে আলাদা ভাবে রাখলে সমস্যা নেয় । কিন্তু প্রত্যেক রোজার পূর্বে নিয়ত করতে হবে । 

ইবনে হাযম (রঃ) বলেন

যদি কেউ তিন দিন আলাদা আলাদাভাবে রোজা রাখতে চায় তাহলে তা যথেষ্ট হবে যা শাফি ও মালিকিদের মত । কারন আল্লাহ তা'আলা নির্দিষ্ট করে দেননি যে রোজাগুলা ধারাবাহিক নাকি আলাদা ভাবে রাখতে হবে । সুতরাং যে যেভাবেই রাখুক তাই যথেষ্ট হবে । (আল মুহাল্লা ৬/৩৪৫)

সাউদি আরবের সর্বোচ্চ ফাতওয়া বোর্ড এর ফাতওয়া হল-

রোজাগুলো একসাথে রাখা উত্তম । যদি একসাথে নাও রাখে কোন সমস্যা নেই । (আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ  ২২/২৩)

 

মূল কথা হল দুই ভাবেই রোজাগুলা রাখা জায়েয ।


ওয়াল্লাহু আলাম





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন