শিয়া এবং আহলে সুন্নাহ আকিদা পর্ব ১।



ইবনে তাইমিয়্যাহ : বলেছেন,  "people should learn about evil not to commit it but to abstain himself from doing it : মানুষ মন্দ জিনিসগুলো সম্পর্কে জানা উচিৎ মন্দ কাজ করার জন্য না, তা থেকে নিজেকে বিরত থাকার জন্য

আমরা সবাই  একটা হাদীসের সাথে অনেক পরিচিত  যে ইসলাম  ৭৩টি ভাগে বিভক্ত হবে তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় দলটি জান্নাতে যাবে

ইসলামের প্রথমযুগে মুসলিমরা একই ঘটানকে কেন্দ্র করে দুটি ভাগে হয় একটি খাওয়ারিজি অন্যটি রাফিদা তথা পরিত্যাগকারী আর রাফিদা দিয়ে শিয়াদের বোঝানো হচ্ছে

ইনশাআল্লাহ আমি শিয়াদের ওপর মধ্যম পর্যায়ের কিছু লিখবো খুব বেশী ডিটেল না আবার বেসিক  না আমার মনে হয় আমার এবং প্রতিটা মুসলিমেরই জানা উচিৎ ইসলামের মাঝে বিভিন্ন দল,মতের পার্থক্য কি? কোনটা সঠিক কোনটা ভুল সেটা যেন বুঝতে পারি যাতে লোভনীয় ওয়াজ, ফেসবুক ভিডিও আর সুরেলা গানের মাঝে ঈমান না হারাই আল্লাহ কবুল করুক

রাসূল সা: এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর রা:,  ওমর রা: এর শাসনামলে আরব উপদ্বীপ ছাড়িয়ে রোম, ইরাণে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে  তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রা: এর শাসনেও ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার অব্যাহত ছিল সবাই আল্লাহ আল্লাহ তার রাসূলকে সত্য জেনে ইসলাম গ্রহন করেন কিন্তু এদের ভেতরে অনেকে  ছিলেন যারা  মুখে স্বীকার করলেও তাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামে ফেতনার সৃষ্টি করা তাদের মধ্যে একজন ছিলো আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা.

 ইমাম আবু হানিফা : বলেন,  আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ছিল একজন হুদি যে হযরত উসমান রা: এর সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মিশরে ফিরে যায় সেখানে গিয়ে তিনি হযরত উসমান রাঃ কে হত্যা করতে মানুষকে উস্কানো শুরু করে যাতে হযরত আলী রা: এর প্রতি তার ভালোবাসা দেখাতে পারে তার অন্তরে শয়তানি ছিল প্রথম থেকেই আর তার উদ্দেশ্যই ছিল মুসলমানদের মাঝে ফিতনা তৈরী করা[মুসনাদে ইমাম আজম ১৫৮]

সাবা মানুষদের মাঝে নানারকম ভ্রান্ত কথা প্রচার করতে লাগলো যেমন রাসূল : পুনরায় ফেরত আসবেন সে আলী রা: এর নামে নানারকম আজগুবি গল্প বানিয়ে আলী রা: এর প্রতি মানুষের ভক্তি ভালোবাসা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে লাগল এবং সময়েই ইমাম কনসেপ্টের শুরু সে মানুষকে বলে বেড়াতে লাগল যে প্রত্যেক নবীর একজন ওসি থাকেন আর মুহাম্মদ (সা:) এর ওসি হলো আলী ইবনে আবী তালিব রা: এবং তিনিই ছিলেন খিলাফত পাওয়ার অধিকারী এজন্য সে মানুষকে হযরত উসমান (রা:) এর বিরুদ্ধে উসকাতে লাগল যাতে তারা তার সাথেও যুদ্ধ করে যার ফলস্বরূপ উসমান (:) কে মজলুম অবস্থায় শহীদ করা হয়

পরবর্তীতে আলী রা: এসব জানতে পেরে সাবা এবং তার সহযোগীদের হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলেন মতান্তরে   সাবা আর সাথীরা আলী (:) কে বলে আপনিই সেই , আলী বললেন আমি কে? তারা বলল আল্লাহ, তখন আলী তাদেরকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করে হত্যা করলেন , আর সাবাকে মাদাইন দেশান্তর করলেন

ইন্টারেস্টিং বিষয় হল মডার্ণ শিয়ারা সাবা' অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা কিন্তু পুরোনো শিয়া বইতে বহুবার সাবা'কে শিয়া উত্থানের নায়ক বলা হইছে বর্তমান শিয়ারা লজ্জা পায় কারণ তার শেষ পরিণতি যা হয়েছে স্বয়ং আলী রা: এর হাতে এতে করে তাদের পুরো ভিত্তিই নড়ে যায় ইবনে সবার অস্তিত্বের প্রমাণ শিয়া বইয়ে ভরপুর যেমন  রিজাল আল কাশি ৭১, খান্দানে নাও ভক্তি ২৭৫, আনওয়ারুল নোমানিয়া /২৩৪, ইত্যাদি ইত্যাদি.

ইবনে সাবাই মূলত মূল শিয়া আকিদাগুলোর গোড়াপত্তন করে এরপর শিয়াদের ভেতরে নানান শাখাপ্রশাখা গজায়  যুগে যুগে শিয়াদের ভেতর অনেক ইমাম গঠন করে তারা  উল্লেখ্য যে এসব ইমামদের কেউই তাদের পক্ষে ছিলেননা শিয়ারা এসব ইমামদের নিয়ে তাদের মনগড়া ঘটনা, মুযিজা  আর শিয়া আলেমদের ইচ্ছামত ফতোয়াবাজি করে মানুষকে আরো গোমরাহীর পথে নিয়ে যায় সুতরাং এসব ইমামদের প্রতি ঘৃণা আনা যাবেনা বরঞ্চ আহলে বাইত'কে ভালোবাসতে হবে

 

আমার লেখার মূল বিষয়বস্তু হবে শিয়া আকিদাগুলো।  এসব আকিদা আবার সব শিয়া পোষণ করেনা তার ওপর নির্ভর করে তাদের ভেতরেও ভাগ আছে  শেষের দিকে শিয়াদের বিভিন্ন দল নিয়ে বলব ইনশাল্লাহ।

 আল্লাহর একত্ববাদ নিয়ে শিয়াদের বিশ্বাস 

আল্লাহ তায়ালা একক তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং মাত্র তিনিই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন যেমন তিনি বলেন

"Aal-e-Imran 3:26, 27

 

قُلِ ٱللَّهُمَّ مَٰلِكَ ٱلْمُلْكِ تُؤْتِى ٱلْمُلْكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلْمُلْكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُۖ بِيَدِكَ ٱلْخَيْرُۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল

تُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَتُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِۖ وَتُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّۖ وَتَرْزُقُ مَن تَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

 

তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর"

এতদসত্ত্বেও শিয়া বিশ্বাসে আলী রা: এবং তাঁর পরবর্তী প্রজন্মকে আল্লাহ এবং তার সৃষ্টিতে তাদের শরীক করা হয় 

আল কাফি,  শিয়াদের সহীহ(!) হাদীসের বইতে "পুরো পৃথিবী ইমামদের" অধ্যায়ে লেখক আল কুলাইনি বর্ণনা করেন, "আবু আবদুল্লাহ(ইমাম জাফর) বলেন ' তুমি কি জানো এই দুনিয়া এবং পরকাল দুটোই ইমামের তিনি যেখানে ইচ্ছা বন্টন করেন যাকে ইচ্ছা দান করেন "  (আলকাফি /৪০৯)

আল মাজলিসি রচিত বিহার আল আনওয়ার গ্রন্থে এমন ঘটনার উল্লেখ আছে - যে ইমাম জাফর : একজন মানুষকে মৃত থেকে জীবিত করেন আহমদ নামে এক ব্যক্তি মারা যান এবং জাফর : বলেন "হে আহমদ, আল্লাহ এবং জাফর ইবন মুহাম্মদের অনুমতিক্রমে উঠে দাড়াও এরপর সে উঠে দাড়ায় এবং তার কাছে আসে" (বিহার আল আনওয়ার ৪৭/১৩৭)

এখানে ইমাম জাফর আল্লাহর সাথে নিজেকে শরীক করেছে এসব আকীদা শুধু পূর্ববর্তী শিয়াদের নয় বরং বর্তমান শিয়ারাও বহন করেন। যেমন আল খোমেনি  বলেন " বিশ্ব ব্রহ্মজ্ঞে ইমামদের সম্মানের বিশেষ অবস্থান  রয়েছে যা দেয়া হয়েছে  তাদের ওয়ালিয়্যাহ তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল অনু পরমাণুর ওপর  তাদের কর্তৃত্ব আছে বিধায় (আল হুকুমুাহ আল ইসলামিয়ায়,  ৫২, আলখোমেনি)

হযরত আলী রা:, হাসান এবং হোসাইন রা: সবাইকেই হত্যা করা হয়েছিল শিয়াদের ভয় এই যে তাদের গোপনে থাকা ইমাম যদি বাইরে আসেন তাকেও হত্যা করা হবে কিন্তু স্বয়ং ইমামরাই যদি এত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে ভয় পাওয়াটা হল কপটতা যা উত্তরণের একমাত্র পথ হল এই মিথ্যা থেকে বেরিয়ে আসা এবং তওবা করা

ইবাদতে আল্লাহর সাথে শিরক

শিয়াদের ভেতর বহুলপ্রচলিত শব্দ হচ্ছে "ওয়ালিয়্যাহ"।   রাসূল সা: এর পর হযরত আলী রা: এবং তার পরবর্তী বংশীয়দের পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে পাঠানো হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিশ্বাসই হল ওয়ালিহ্যাহ।

আল্লাহ মানুষ এবং জ্বীনদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের জন্য। একমাত্র তাঁরই।

"An-Nisa' 4:36

وَٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا۟ بِهِۦ شَيْـًٔاۖ

আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে।"

"Al-Jinn 72:18

وَأَنَّ ٱلْمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا۟ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدًا

 

এবং এই ওহীও করা হয়েছে যে, মসজিদসমূহ আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে ডেকো না।"

কিন্তু শিয়াদের ভেতরে আল্লাহকে এককভাবে ইবাদতের মালিক বলে মেনে নেয়ার কোনো বালাই নেই। তাদের মতে যে ব্যক্তি রাসূল স: এর পরে আলী রা: কে ইমাম বলে মানবে সে হবে একেশ্বরবাদী। আর যে ইমামে বিশ্বাস করবে না সে মুশরিক এবং জাহান্নামি। 

"Az-Zumar 39:65

وَلَقَدْ أُوحِىَ إِلَيْكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ 

আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন।"

এটা হচ্ছে আয়াতের সরল অনুবাদ। কিন্তু উসুল আল কাফি ১/৪২৭ এবং তাফসির আল কুমি ২/২৫১ (শিয়া গ্রন্থ দুটাই) ওরা আয়াতটিকে এভাবে অনুবাদ করেছে 

"তুমি (রাসূল স:) যদি ওয়ালিয়্যার ব্যাপারে আলী রা: এর সাথে কাউকে সমকক্ষ করো তোমার সব কর্ম নিস্ফল"

এটিকে তারা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এভাবে লিখেছে  " আল্লাহ আলী রা: কে তাঁর সৃষ্টি এবং তাঁর মাঝে নিদর্শন হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। যে এটা মেনে নিবে  করবে সে বিশ্বাসী, যে মানবেনা সে অবিশ্বাসী এবং যে অবহেলা করবে সে পথচ্যুত।  এবং যে তার (আলী রা:)  এর সাথে কাউকে সমকক্ষ মনে করবে সে মুশরিক এবং যে ওয়ালিয়্যাহ ধারণ করবে সে জান্নাতে যাবে। (উসুলুল কাফি ১/৪৩৭)

এছাড়াও ইমামদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, ইবাদতে আল্লাহ এবং তাদের মাঝে ইমামদের ওসিলা হিসেবে ব্যবহার করা, তাদের সমাধিতে মিলিত হওয়া, তাদের কবরে সিজদা এবং ঐসব কবরকে ক্বিবলা বলে বিবেচনা করা মসজিদুল হারাম বাদে এসব কিছু শিয়াদের থেকে আসছে। মজার ব্যাপার হল আমাদের একদল কথিত সুন্নী (সুফী) ও কোনো অংশে কম নয় এসমস্ত কাজে।

আল আমালী পৃ ২৯২-২৯৩ তে এরকম একটা ঘটনার কথা বলা আছে যে এক লোক ইমাম আস-সদিক র: (জাফর ইবন মুহাম্মদ, শিয়াদের ৬ষ্ঠ ইমাম) এর কাছে এসে ঋণ এবং শাসকের অত্যাচার থেকে বাঁচার উপায় জানতে চায়। এরপর আস সাদিক র: তাকে বলেন তিনি যেন দুই রাকাত নামাজে সূরা শেষে আল্লাহ, মুহাম্মদ সা:, আলী রা:, ফাতিমা রা:, হাসান রা:, হোসাইন রা: একাধারে সব ইমামদের নাম দশবার করে ডেকে এরপর আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়।

মূর্তিপূজার সমর্থন জানিয়ে আল খোমেনি তার বই কাশফ আল আসরার এ বলেন "পাথর থেকে কারো সাহায্য চাওয়াটা শিরক নয়। বরং শুধুই অবৈধ। আমরা শুধু পবিত্র আত্মাদের থেকে সাহায্য  চাই যেমন নবী এবং ইমামগণদের থেকে যাদের আল্লাহ সাহায্য করার শক্তি দিয়েছেন (পৃ ৪৯) 

কবর জিয়ারতের মূল উদ্দেশ্য হল মৃত্যুর কথা স্বরণ করা এবং মৃতব্যাক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। বহু দূর থেকে কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার মাহাত্ম্য কুরআন এবং সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা, সিজদাহ করা, মৃত ব্যক্তির সান্নিধ্য চাওয়া, হাত বুলানো কিংবা তাদের থেকে সাহায্য চাওয়া হারাম। এগুলা শিরক এর একটা রূপ। কিন্তু শিয়াদের দেখা যায় তাদের ইমামদের কবরে যাওয়া এবং তাদের প্রতি প্রার্থনায় মানুষদে উদ্বুদ্ধ করতে।

"হুসাইন রা: এর মাজার গমন করা বিশটি ওমরাহ এবং একটি হজ্বের সমান" (ফু'রো  আল কাফি ১/৩২৪)

আরো কয়েকটি বর্ণনা আছে যেখানে ইসলামের মূল স্তম্ভের একটি, হজ্ব এবং পবিত্র কা'বা ঘরের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। যেমন " যে ব্যক্তি ঈদের দিন বাদে কোনোদিন হুসাইন রা: এর কবর জিয়ারত করবে আল্লাহ তাকে বিশটি কবুল হজ্জ এবং বিশটি ওমরার সওয়াব দিবেন। যদি ঈদের দিন জিয়ারত করে তাহলে একশ কবুল হজ্ব এবং ওমরার সওয়াব। যে আরাফার দিন এ জিয়ারতে মাহাত্ম্য মনে রেখে জিয়ারত করবে তাকে এক হাজার কবুল হজ্ব এবং ওমরার সওয়াব দেয়া হবে।

তাদের আরেকটি জাল বর্ণনায়  আসে,  হযরত জাফর আস-সাদিক র: বলেন " কা'বার ভূখন্ড (মক্কা) বলল ' আমার মত কে আছে? আল্লাহর ঘর আমার পিঠে তৈরী। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। আমাকে তৈরী করা হয়েছে পবিত্র এবং নিরাপদ করে। এরপর আল্লাহ বললেন 'থামো। কারবালার পবিত্রতার তুলনায় তোমার পবিত্রতা সাগররে পানিতে সূঁচ এর অগ্রভাগ ডোবালে যে পানি উঠে আসবে ঐ পরিমান। কারবালার পাথর  না থাকলে তোমার এত মর্যাদা থাকতো না। কারবালার জমিনে যাকে দাফন করা আছে (হুসাইন)  সে না থাকলে তোমাকে এবং যে ঘর নিয়ে তুমি গর্ব করো সে ঘর সৃষ্টি করা হতো না। সুতরাং থামে, শান্ত থাকো অন্যথায় তোমাকে ডুবিয়ে দেব এবং জাহান্নামের আগুণে পোড়া-বো"" (কামিল জিয়ারত পৃ ২৭০)

 

শিয়া এবং তাদের ভাই সুফীদের মাঝে কবরকে সিজদাহ করার বিষয়টি অনেক কমন। যদিও তারা এটিকে তারা সম্মানের সিজদাহ বলে কিন্তু নাম বদলালেই তো আর বাস্তবতা বদলায় না। তাদের সিজদাহ হয় সাহায্য প্রার্থনা, ভয়, ক্ষমাপ্রার্থনা,  নিচের ক্ষুদ্রতা বোঝাতে। "আবু জাফর আস-সাদিক র:  বলেন যখন তুমি মাজারে আসবে কবরের দিকে মুখ করে সিজদাহ করবে এবং বলবে 'হে আমার অভিভাবক, আমি ভয় নিয়ে এসেছি আমাকে নিরাপত্তা দিন। আমি আশ্রয় নিতে এসেছি আমাকে আশ্রয় দিন... এরপর আবার সিজদাহ করবে" (বিহার আল আনওয়ার ১০১/২৫৭-২৬১)


আবারো সতর্কীকরণ  এই যে ইমামদের নামে এসব মিথ্যাচার শিয়াদের নিজেদের বানানো কোনো ইমাম এর সম্মতি দেননি বরং বিরোধীতা করেছেন নিয়ে পরে বিস্তারিত লিখবো ইনশাআল্লাহ।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন